
মাইগ্রেন বা তীব্র মাথা ব্যথার সমস্যা যাদের আছে, রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা এবং রুটিন বদলে যাওয়ার কারণে তাদের কষ্ট বাড়তে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে মাইগ্রেন নিয়েও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা রাখা সম্ভব। চলুন, জেনে নিই রমজানে মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়।
মাইগ্রেন কেবল সাধারণ মাথাব্যথা নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগ।
এতে মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং আলো বা শব্দে অস্বস্তি হতে পারে। রমজানে পানি ও ক্যাফেইনের (চা-কফি) অভাব এবং ঘুমের অনিয়মের কারণে এই ব্যথা বাড়তে পারে।
রোজায় সুস্থ থাকতে করণীয়
১। খাবারের তালিকায় পরিবর্তন
সাহরিতে গুরুত্ব দিন: সেহরি বাদ দেবেন না।
সাহরিতে ওটস, লাল চালের ভাত, ডিম, মাছ বা বাদাম জাতীয় খাবার রাখুন যা দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়।
মিষ্টি ও চিনি বাদ দিন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার পিপাসা বাড়ায় এবং পরে ক্লান্তি তৈরি করে।
পর্যাপ্ত পানি: ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি ও তরল খাবার পান করুন যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
২।
চা-কফির অভ্যাস সামলানো
যারা প্রচুর চা-কফি পান করেন, রোজা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই তা পানের পরিমাণ কমিয়ে আনুন। হঠাৎ বন্ধ করলে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে পারে। প্রয়োজনে সাহরিতে সামান্য চা বা কফি পান করতে পারেন।
৩। ঘুমের রুটিন ঠিক রাখা
রমজানে ঘুমের সময় বারবার পরিবর্তন করবেন না।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং জাগার চেষ্টা করুন। দিনের বেলা সম্ভব হলে ২০-৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা বিশ্রাম নিন।
৪। ঔষধের ব্যবহার
যাদের নিয়মিত ঔষধ খেতে হয়, তারা রোজা শুরুর আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনার ঔষধের সময় বদলে সাহরি বা ইফতারের পর নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
কখন রোজা রাখা কঠিন হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মাইগ্রেনের ব্যথা এতই তীব্র হয় যে বারবার বমি হতে থাকে, তবে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এমন অবস্থায় রোজা রাখা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সূত্র : বিবিসি বাংলা