শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে রমজানে যানজট নিরসনে  বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ২৯ Time View

ফরিদপুরে রমজানে যানজট নিরসনে  বাড়তি পুলিশ মোতায়েন,

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আগে শহরে বাড়তি যানচাপ সামাল দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুর জেলা পুলিশ। অফিস–আদালত ছুটির পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে ‘ঝুঁকিপূর্ণ সময়’ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অবৈধ পার্কিং ও সড়কের পাশে অননুমোদিত দোকান বসানোর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে কঠোর অভিযান।

ইফতারের আগে বাড়তি চাপ:
ট্রাফিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রমজানে বিকেলের শেষ ভাগে শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি অলিগলিতেও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও টার্নিং পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামা, নির্ধারিত স্থান ছাড়া গাড়ি পার্কিং এবং রাস্তার পাশে ভাসমান ভ্যান–দোকানের কারণে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাফিক বিভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। নিয়ম ভেঙে রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করানো, রং পার্কিং কিংবা ফুটপাত দখল—কোনোটিই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

ট্রাফিক বিভাগের বক্তব্য:
ফরিদপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টি টি) মো. খুরশীদ আলম শিকদার বলেন, “রমজান মাসে যাতে যানজট না হয় এবং পথচারীরা নিরাপদে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বাড়তি ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, শপিংমলগুলোর সামনে ও আশপাশে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ক্রেতাদের গাড়ি পার্কিং ও জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যায়। অভিযান চলমান থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে যানবাহন শহরে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ভারী যানবাহন নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলছে কি না—তা তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলমান সড়ক মেরামত কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক সুফল, দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা:
ইতোমধ্যে শহরের কয়েকটি ব্যস্ত এলাকায় যানজট কিছুটা কমেছে বলে দাবি ট্রাফিক বিভাগের। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত নগর পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
রমজানের সংযম ও সহনশীলতার চেতনা ধারণ করে চালক ও পথচারীরা যদি ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলেন, তাহলে শহরের সড়কে স্বস্তি ফিরবে—এমন প্রত্যাশাই করছে জেলা পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category