
পেশায় কৃষক আবুল হাসান দীর্ঘদিন অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর আর মাঠে কাজ করতে পারেন না। আয়ের কোনো উৎস না থাকায় তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছিল। এমনকি নিজের থাকার মতো একটি ঘরও ছিল না তাদের।
এই কঠিন সময়ে তার পাশে দাঁড়ান ফরিদপুরের তরুণ সমাজসেবী ও পেশায় চিকিৎসক আহমেদ সৌরভ। স্থানীয়দের মাধ্যমে আবুল হাসানের দুর্দশার কথা জানতে পেরে তিনি তাকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন।
জানা যায়, স্থানীয় মিজান নামের একজন বিষয়টি আহমেদ সৌরভকে জানান। এরপর তিনি বোয়ালমারীর বাসিন্দা সুমনকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়ে আবুল হাসানের প্রকৃত অবস্থা খোঁজ নেন। পরে বিষয়টি নিয়ে শুভ নামে এক দাতব্যপ্রবণ ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেন। শুভ তার মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এই অর্থ দিয়ে আবুল হাসানের জন্য একটি ছোট মুদি দোকান তৈরি করে দেওয়া হয়। শুধু দোকানই নয়, দোকানে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীও তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চা তৈরির সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে, যাতে মুদি দোকানের পাশাপাশি চা বিক্রি করেও আয় করতে পারেন তিনি।
বর্তমানে আবুল হাসান প্রতিদিন ওই দোকান থেকে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার পণ্য বিক্রি করছেন। এতে করে ধীরে ধীরে তার পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অসহায় জীবনের পর নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর আবুল হাসানের পরিবার প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সমাজের কিছু মানবিক মানুষের সহায়তায় এখন তিনি আবার স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন।
সমাজসেবী আহমেদ সৌরভ বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। সমাজে অনেক মানুষ আছেন যারা একটু সহযোগিতা পেলেই ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। আবুল হাসান তাদেরই একজন। আমরা চাই তিনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।”
আবুল হাসান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহর রহমত আর কিছু ভালো মানুষের সহযোগিতায় আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেয়েছি।”
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে অনেক অসহায় পরিবারই নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবে।