বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন

ফরিদপুরে উল্টে যাওয়া প্রাইভেট কারের পাশে মিললো মরাদেহ, পুলিশ হেফাজতে দুই আরোহী

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

ফরিদপুরে উল্টে যাওয়া প্রাইভেট কারের পাশে মিললো মরাদেহ, পুলিশ হেফাজতে দুই আরোহী

মোঃ ইলিয়াছ খান (সালথা উপজেলা) প্রতিনিধি ফরিদপুর:

ফরিদপুর সড়কের পাশে উল্টে যাওয়া একটি প্রাইভেট কারের পাশ থেকে রবিউল ইসলাম(৩৬) নামে এক ব্যক্তির মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রাইভেট কারে থাকা দুই ব্যক্তিকে ধরে পুলিশে সপর্দ করে স্থানীয়রা। নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, প্রকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ হত্যাকাণ্ডের আলামত মিলেছে।

মরাদেহটি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন তার স্ত্রী এবং ১১ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।

আজ বুধবার (৬ মে) দুপুরে মরা দেহটি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এটি হত্যাকান্ড কিনা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তবে মরা দেহটির ডান পায়ে ক্ষত রয়েছে এবং মাথায় ক্ষত সহ শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া প্রাইভেটকার করে টাকা দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে আশা করি, দ্রুতই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (৫ই মে) দিবাগত রাত ৯ টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সাতৈর, মোহাম্মদপুর সড়কের বটতলা সংলগ ্ন এলাকায় উলটে যাওয়া প্রাইভেটকার করে ও মরা দেহটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। এ সময় প্রাইভেট কারের চালক ও আরোহীদের ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে তারা। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে মরা দেহটি উদ্ধার সহ দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। প্রদক্ষশীলরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা প্রাইভেট কারে ৪-৫ জন যুবক ছিলেন তাদের মধ্যে তিনজন পালিয়ে যান এবং শাহজাদা (২৩) ও তপু সাহা (২২) নামে দু’জনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের ধারণা, হত্যার পরে মরা দেহ ফেলে পালানোর সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে নিহত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল দুপুরে প্রতিবেশী সাঈদ মোল্যার সঙ্গে তার মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে বোয়ালমারী হাটখোলা গ্রামে এসেছিলেন রবিউল ইসলাম (নিহত) একপর্যায়ে সাঈদ মোল্লার জামাতার বাড়ি থেকে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হল তিনি। এছাড়া ঘটনার পর থেকে সাইদ মোল্লার জামাতা শহিদুল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা ও পলাতক রয়েছে।। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। রবিউলের সঙ্গে থাকা সাইদ মোল্লা জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় তার মেয়েকে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন শহিদুল শেখ। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এরই মধ্যে শহিদুল কাল সালোকের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে অন্যথায় বন্ধক রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকারে ধারণ করে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশী রবিউলকে নিয়ে ওই মোটরসাইকেল ফেরত নিতে জামাই বাড়িতে আসেন সাইদ মোল্যা। এ সময় মোটরসাইকেল দেওয়া না দেওয়া তর্কে বিতর্ক হলে মোটরসাইকেল না নিয়েই ফেরে জান তিনি। সাইদ মোল্যা বলেন, বিকালে জামাতা শহিদুল আবার ফোন করে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে আমাদের কে ডেকে নেন। পরে আমাকে স্থানীয় এক মাতুব্বরের বাড়িতে বসিয়ে রাখা হয় এবং প্রকৌশলে রবিউল ইসলামকে আলাদা করে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শহীদের মোবাইলে বলেন, আপনি চলে যান, কাল সকালে মোটরসাইকেল পৌছে দেওয়া হবে”এরপর থেকেই নিখোঁজ রবিউল। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা গোলাম সারোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে মোটরসাইকেল আনতে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।

উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থলে যান মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খানসহ থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের পরি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং প্রাইভেট কারটির ভূমিকা। নিয়েও তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category